সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ, রাতে প্রত্যাহার

নিউজফিড,সিলেটঃ
যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২ জুলাই) রাত ১০টা থেকে সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করে রাখেন ট্রাক শ্রমিকরা। সড়কের পরগনা বাজারে ট্রাক আড়াআড়ি করে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রেখে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়া অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা হন। দূর-দূরান্তের মানুষদের গাড়িতেই অপেক্ষা করতে হয়।

এ পরিস্থিতিতে রাতে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে প্রশাসন। বৈঠকে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের ও অপরাধীদের গ্রেফতারের আশ্বাসে রাত পৌনে ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নেন নেন শ্রমিকরা।

সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের আবু সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আমরা এ ধরনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি চাই না। কিছু হলেই গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, এটা দেশের জন্য ক্ষতিকর। কারণ, পরিবহন তো রাষ্ট্রের সম্পদ।

তিনি বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে আফছর গ্রুপের লোকজন আটটি ট্রাক ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে।

এর আগে, মঙ্গলবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়ায় যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে চার পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সিলেট জেলা যুবলীগের সম্মেলনে একই পদে প্রার্থী হওয়া নিয়ে সংঘাতে জড়ান দুই নেতার কর্মী-সমর্থকেরা।

নগরের শাহপরান ব্লকের যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট আফছর আহমদ ও সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় দেশীয় অস্ত্রসহ উভয় গ্রুপ একে অপরকে ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বলে জানান স্থানীয়রা। এসময় গুলিবিদ্ধ একজনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষের সময় পুলিশের একটিসহ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, ভাঙচুর করা হয় আটটি ট্রাক। এসময় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। খবর পেয়ে জালালাবাদ সেনানিবাস এলাকার দমকল বাহিনীর দু’টি ইউনিট আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here