ভ্রমণ পিপাসুদের তীর্থস্থান , সীতাকুণ্ড

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড  বাংলাদেশের সবচে সুন্দরতম স্থান গুলোর মধ্যে অন্যতম হিসাবে বিবেচনা করা হয়। চট্রগ্রামে রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার,কাপ্তাইলেক,মেঘের রাজ্য সাজেকবেলী, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি,রাঙামাটির মত পাহাড় ঝর্ণাতে ঘেরা দৃষ্টিনন্দন স্থানসমূহ। এসব কারণে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে চট্টগ্রামের কদর বহুগুণ বেশিই। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরের খুব কাছে সীতাকুণ্ড  অনেক গুলো পর্যটন স্পট রয়েছে যেখানে দিনে গিয়ে আবার দিনের মধ্যে ফিরে আসা যায়। আজ এমনি কয়েকটি স্থানের বর্ননা তুলে ধরবো।

চন্দ্রনাথ পাহাড়

সীতাকুণ্ড অপরূপ প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের লীলাভূমি। এ এলাকা শুধু হিন্দুদের বড় তীর্থস্থানই নয় খুব ভাল ভ্রমনের স্থানও বটে। সীতাকুণ্ডের পূর্বদিকে চন্দ্রনাথ পাহাড় আর পশ্চিমে সুবিশাল সমুদ্র।সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৪কি.মি. পূর্বে চন্দ্রনাথ পাহাড়অবস্থিত। আপনি পায়ে হেঁটে অথবা রিক্সায় চড়ে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যেতে পারেন।

মহামায়া লেক

চট্রগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম কৃত্রিম হৃদ। মিরসরাইয়ের দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলেজুড়েঅবস্থিত ১১ বর্গ কিলোমিটারের মহামায়া লেক। লেকেরশীতলজলরাশি আর পাহাড়ের মিতালী ছাড়াও এখানে পাহাড়ি গুহা, রাবার ড্যাম ও অনিন্দ্য সুন্দর ঝর্ণা রয়েছে। বোটে চড়ে লেকে ঘুরার পাশাপাশি চাইলে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণার শীতল পানিতে ভিজে শরীর ও মনকে অপার্থিব প্রশান্তি দিতে পারেন। মহামায়া লেকে আছে কায়াকিং করার সুবিধা এবং চাইলে তাবুতে রাতে ক্যাম্পিং করে থাকতেও পারবেন।

বাশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চট্টগ্রাম শহর থেকে ২৫ কিঃমি উত্তরে একটি ছোট্ট বাজারের নাম বাঁশবাড়িয়া বাজার। এই বাজারের মধ্য দিয়ে সরু পিচ ঢালা পথে মাত্র ১৫ মিনিটে পৌঁছানো যায় বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র উপকুলে। এই সমুদ্র সৈকতের মুল আকর্ষণ হল, প্রায় আধা কিলোমিটারের বেশি আপনি সুমুদ্রের ভিতর হেটে যেতে পারবেন।  সুমুদ্রের মতই বড় বড় ঢেউ আছে। এখানে এসে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়ানো যাবে, আহরন করা যাবে প্রকৃতির শোভা। ঝাউ বাগানের সারি সারি ঝাউ গাছ ও নতুন জেগে উঠা বিশাল বালির মাঠ, সব মিলিয়ে এ এক অপূর্ব সৌন্দর্য অপেক্ষা করছে দর্শনার্থীদের জন্য।

সহস্রধারাঝর্না

চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকা যাত্রা করে নামতে হবে ছোটদারোগার হাট। সেখান থেকে রিজার্ভ সি এন জি কিংবা লোকাল সি এন জি তে যেতে হবে পরীর দিঘীর পাড় পর্যন্ত।  দিঘীর পাড় থেকে পাহাড় ঘেষে যাওয়া ট্রেইলে ২০-২৫ মিনিট হাটলেই পাওয়া যাবে এলাকার কমিউনিটির নিজস্ব উদ্যোগে করা সহস্রধারা বাধ। বর্ষাকালে এই বাধটিকে অসম্ভব সুন্দর দেখায়।লেকের পাড় থেকে বোটে করে ৫-১০ মিনিটেই পৌছে যাওয়া যায় ।

ফিচার লেখকঃ আবির আহমেদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here