প্রার্থীতা বাতিলের কারন

নিউজফিড,চট্টগ্রাম ::চট্টগ্রামের মোট ১৬ আসনে ৪৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। মনোনয়নপত্র দাখিল করা ১৮০ জন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমানে বৈধ প্রার্থী হলেন ১৩৪ জন।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির নুরুল আমিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম, মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ও শহীদুল ইসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা নুরুল আমিন উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ করেনি। পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অন্য তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী মোট ভোটারের এক শতাংশের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। সেই তালিকা থেকে বাছাই করে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়। সেই তথ্যে গড়মিল পাওয়ায় তিন জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ১৩ জনের মধ্যে দুই জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ঋণখেলাপি এবং দলীয় চিঠি না দেওয়ায় ও ব্যাংকে টাকা জমাদানের রশিদ সংযুক্ত না করায় মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার। জাকের পার্টির আবদুল হাই জামানতের টাকা জমা না দেওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ৮ জনের মধ্যে দুই জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা ১৯৯১ সালের টিএন্ডটি বিল বকেয়া থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কামাল পাশা আত্মপক্ষের সমর্থনে দাবি করেছিলেন, ‘৯১ সালের পর তিনি তিনবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দুইবার এমপিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিল বকেয়ার কোনো নোটিস পাননি বলেও দাবি করেন। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন হোসেন জানান, টিএনটি কর্মকর্তারা নোটিস প্রদর্শনের পর তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কৃষি ব্যাংকের ঋণখেলাপির অভিযোগে জাসদের (ইনু) মোহাম্মদ আবুল কাসেমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে চারজনের মধ্যে ঋণখেলাপির কারণে বিএনপির সামীর কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী) আসনে ১২ জনের মধ্যে তিন জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বিএনপির তিন প্রার্থীর মধ্যে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় ঋণখেলাপির পাশাপাশি দলীয় চিঠি সংযুক্ত করতে না পারায়। এছাড়াও বিএনপির আবু আহমেদ হাসনাতকে প্রাইম ব্যাংক ও মো. আবদুল আলিমকে স্ট্যান্ডার্ট চ্যাটার্ট ব্যাংকের ঋণখেলাপির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১২ জনের দুই জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ঋণখেলাপির কারণে এলডিপির প্রার্থী এম এয়াকুব আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় মোট ভোটারের এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জমা দেন। যাচাই-বাছাইকালে অমিল পাওয়ায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ১০ জনের মধ্যে দুই জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ জামাল উদ্দিন আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু আরপিও শর্ত অনুযায়ী, দাখিল করা এক শতাংশ ভোটারের অমিল থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়াও বিএনএফের প্রার্থী নারায়ন রক্ষিতের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় গ্যারান্টার খেলাপির (জামিনদার) অভিযোগে ।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনে ১৩ জনের মধ্যে তিন জন মনিরুল ইসলাম, মো. শাহজাহান ও মো. জসিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিন জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরপিও শর্ত অনুযায়ী, এক শতাংশ ভোটারের গড়মিল থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ৮ জনের মধ্যে দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির জাফর সাদেক ও আবদুল জব্বারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমাদানের সময়ে এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় গড়মিল থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের আমির জহিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগপত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গৃহীত না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় নগর সংলগ্ন ৬টি আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই। এতে ২৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৭৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণ খেলাপির কারণে মনোনয়ন বাতিল হয় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. সামসুল আলমের। হলফনামায় সকল তথ্য ও স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়ন পত্র বাতিল হয় মো. দুলাল খানের। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে ব্যাংক হিসাব খোলার কারণে মো. মোরশেদ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, খুলশী, হালিশহর) জাতীয় পার্টির মো. ওসমান খান শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ও কর সার্টিফিকেট উপস্থাপন না করায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। জাসদের আনিছুর রহমান আয়কার রিটার্ন দাখিল করতে না পারায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মনোনয়নপত্র পূরণ অসম্পূর্ণ থাকায় আজাদ দোভাষের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম ১১ আসনে (বন্দর-পতেঙ্গা) বিএনএফের মাওলানা আবু সাইদ মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে ব্যাংক হিসাব খোলা, এনপিপির মো. খোশাল খাঁন স্বাক্ষর না থাকা ও নির্ধারিত সময়ে ব্যাংক হিসাব না খোলায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। গণফোরামের জানে আলম মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না করায় বাতিল করা হয়। মুনতাসির কাদের ও ওমর হাজ্জাজের মনোনয়নপত্র এক শতাংশ ভোটারের গড়মিল থাকায় বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম ৪ আসনে (সীতাকু-) বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ২৭টি ব্যাংকের প্রায় আট শ কোটি টাকা ঋণখেলাপি। ব্যক্তি, কোম্পানি ও গ্যারান্টার (জামিনদার) হিসাবে এসব খেলাপি উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বিএনপির এ কে এম আবু তাহেরের দলের মনোনয়ন ফরম দাখিল না করা ও জনতা ব্যাংকের ঋণখেলাপির কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটে অসঙ্গতি থাকায় আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
চট্টগ্রাম ৫ আসনে (হাটহাজারী) মামলায় সাজার কারণে বিএনপির প্রার্থী মীর মো. নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে মীর মো. হেলাল উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তৃণমুল বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট মাসুদুল আলম বাবলু দলের মনোনয়ন ফরমে দলীয় প্রধানের স্বাক্ষর ও হলফনামায় তথ্য গড়মিল থাকায় মনোননয়পত্র বাতিল করা হয়। মনোনয়নপত্রে অসঙ্গতি থাকায় মো. নাসির উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম ৮ আসনে (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ) আসনে বিএনপির এম মোরশেদ খান ৩১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল ও টেলিফোন বিল বকেয়া থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নির্ধারিত সময়ে ব্যাংক একাউন্ট না খোলায় বিএনপির এরশাদ উল্লাহর মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। ঋণখেলাপির দায়ে বাতিল হয় মো কামাল পাশার মনোনয়নপত্র। স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ উদ্দিন খান, মো. আবদুল মোমিন ও হাসান মাহমুদ চৌধুরী এক শতাংশ ভোটারে অসঙ্গতি পাওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here