টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন আজ

নিউজফিড , ঢাকা ::

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক । ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর লন্ডনের মিচামে সেন্ট হেলিয়ার হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন । শেখ রেহানা ও শফিক সিদ্দিকীর ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয়া মেয়েটি মাত্র ১৬ বছর বয়স থেকে লেবার পার্টির কার্যক্রমের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন ।
তার শৈশব কেটেছে বাংলাদেশ, ভারত এবং সিঙ্গাপুরে। ১৫ বছর বয়স থেকে তিনি হ্যাম্পস্টিড ও কিলবার্নে বসবাস করছেন। এই এলাকায় স্কুলে পড়েছেন ও কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পলিটিক্স, পলিসি ও গভর্নমেন্ট বিষয়ে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন । মাত্র ১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টির সদস্য হওয়া টিউলিপ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গ্রেটার লন্ডন অথরিটি এবং সেইভ দ্য চিলড্রেনের সঙ্গেও কাজ করেছেন। ২০১০ সালে ক্যামডেন কাউন্সিলে প্রথম বাঙালি নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি।

২০১০ সালে শেতাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকা থেকে নারী কাউন্সিলর হিসেবে টিউলিপের জেতা ছিল কষ্টসাধ্য কাজ । কিন্তু কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মানুষের মনজয় করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন । ইয়ং লেবারের ইথনিক মাইনরিটি অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন বেশ কিছুদিন । লেবার পার্টির চেয়ার হিসেবে এ্যাড মিলিব্যান্ডকে নির্বাচিত করতে কঠোর পরিশ্রমের ফল পান পরবর্তি জাতীয় নির্বাচনে । মনোনীত হন হ্যাম্পস্টিড ও কিলবার্ন আসন লেবার প্রার্থী হিসেবে ।

কেমন দেখেছেন টিউলিপকে এমন প্রশ্নের উত্তরে তার সাথে নির্বাচনী ক্যাম্পে কাজ করেছেন এমন এক সাংবাদিকের অকপট উত্তর , ‘অসাধারন পরিশ্রমী । খুব সহজেই মানুষকে আপন করে নিতে পারার মতো কোয়ালিটি যেমন আছে তেমনিভাবে উপস্থিত বুদ্ধিমত্তার জন্য তাকে দশে দশ দিতে হবে । ক্যাম্পিং এ আমরা ছেলেরা হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হতাম । কিন্তু টিউলিপ কখনোই না । একথায় প্রচন্ড উদ্দোমী । ‘

বৃটেনের ৫৬ তম সাধারণ নির্বাচনে হ্যাম্পস্টিড ও কিলবার্ন আসন থেকে এমপি পদে বিজয়ী হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি, শেখ রেহানা ও শফিক সিদ্দিকীর বড় মেয়ে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ। ২০১৫ সালের নির্বাচনে টিউলিপের জয়লাভ ছিল অসাধ্য সাধনের মতো । কারন সায়মন মার্কাস শুধু শক্তি প্রার্থী নন ,মুল ধারার সেলিব্রেটি ছিলেন । কিন্তু স্পোর্টস স্টার কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী সায়মন মার্কাসকে ১ হাজার ১৩৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন টিউলিপ। দুইবছর পর ২০১৭ সালে টিউলিপ সিদ্দিক আবারও জিতেন নির্বাচনে। এবার ভোটের ব্যবধান বেড়েছে দশগুণেরও বেশি। লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে লেবার পার্র্টির প্রার্থী টিউলিপ পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৪৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী ক্লেয়ার লুইচ লিল্যান্ড পেয়েছিলেন টিউলিপের অর্ধেক ভোট।২য় বার ১০ গুন বেশি ভোট পেয়ে জিতেছেন হ্যাম্পস্টিড ও কিলবার্ন এলাকাবাসীর মন ।

৩৫ বছর বয়সে টিউলিপ সিদ্দিকী একজন সুবক্তা ও উচ্চ শিক্ষিত পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এখন পুরোদস্তুর একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেবার নেত্রী । ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ছায়া মন্ত্রিসভায় স্থান অর্জন করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র টিউলিপ সিদ্দিকী শুধুমাত্র বাংলাদেশিদের নয় সমগ্র বিশ্বের বাঙালিদের গর্বিত করেছিলেন । অত্যন্ত সাহসী পার্লামেন্ট মেম্বার হিসেবে ২০১৭ সালে বেক্সিট প্রশ্নে স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্যের ছায়ামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর লক্ষ্যে বেক্সিটের সমর্থনে বিলের পক্ষে দল ভোট দিতে বলায় পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি ।

ব্যাক্তিগত জীবনে ছোট বোন আজমিনা সিদ্দিক এখনো শিক্ষার্থী। ২০১৩ সালের ৭ জুলাই ক্রিস পার্সি বিয়ে করেন টিউলিপ । এই দম্পতির এক মেয়ে আজালিয়া জয় পার্সি।
একজন বুদ্ধিদীপ্ত , উদ্দ্যেমী টিউলিপের জন্মদিনে নিরন্তর শুভেচ্ছা ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here