জয় এল বিশ্বনাথের হাত ছুঁয়ে তপুর মাথায় চড়ে

নিউজফিড,ডেস্ক ::
পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ আর সব ম্যাচের মতো না। চেতনায় অন্য কিছু খেলা করে। গ্যালারিতে থাকে অন্য রকম আবেগ। একাত্তর ফিরে আসে। পশ্চিমাদের আবারও হারের স্বাদ দিতে রক্ত চনমনিয়ে ওঠে।
সাফে বাংলাদেশের দ্বিতীয় এ ম্যাচ স্রেফ ফুটবলীয় সমীকরণেও ছিল উত্তেজনায় ঠাসা।

এশিয়াডের জ্বলা তারুণ্যের মশাল প্রথম ম্যাচেও ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান সত্যিকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে হাজির হয়। তাদের শারীরিক সামর্থ্য, ইউরোপীয় ফুটবলে খেলে তাদের স্কিলের উন্নতি জেমি ডের দলের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়। কে না জানে বাঙালি নিজেদের প্রমাণে এমন কত আধিপত্য ছুড়ে ফেলেছে ইতিহাসে। শক্তির বিপক্ষে সাহস আর কৌশলের সেই লড়াইয়েই আরেকবার শরিক হতে কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তাই দর্শকের ঢল। সম্প্রতি ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচ যেন এটি। এ ম্যাচ জিতে আরো বড় কিছুর পানে পা ফেলতে সবাই একাত্ম। মাঠের প্রতিটি অংশে লড়াই হলো সেভাবেই। শুরুতে পাকিস্তানিদের তীব্র আক্রমণ বুক চিতিয়ে ফিরিয়ে দিলেন তপু, টুটুল। প্রতিপক্ষ একটা সময় পিছু হটল। বল পজেশন নিয়ে খেলল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ফের আক্রমণাত্মক হতে প্রতি মুহূর্তে পড়তে হলো প্রতিরোধের মুখে। এই দল জাকার্তায় র‌্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা থাইল্যান্ডকে এভাবে রুখে দিয়েছে। কাতারকে ফেরাতে ফেরাতে একটা সময়ে পাল্টা আঘাতে ছিনিয়ে নিয়েছে জয়।

উত্তর কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোলের নজিরও আছে সাদ উদ্দিনের। পুরো ম্যাচ তাই রুদ্ধশ্বাসে কাটল স্টেডিয়ামের ২০ হাজার দর্শকের। কখনো বাংলাদেশ,’ ‘বাংলাদেশ’ ধ্বনি তুলে তারা মাঠের যোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছে। কখনো চিৎকার করতেও ভুলে গেছে তুমুল উত্তেজনায়। প্রাণ খুলে পুরো স্টেডিয়াম সেই উল্লাস করেছে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে। তপু বর্মণ তখন জার্সিটাকে পতাকা বানিয়ে ছুটছেন। পেছনে পুরো বাংলাদেশ। এই বুনো উদ্যাপনের শেষ হয় সেই একাত্তরকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবার। তপুর হাতে রাইফেল, সামনে হানাদার। বাঙালি যুবক একে একে সব কয়টাকে শেষ রক্ত-ঘামের শোধ নিলেন তুমুল। এমন উদ্যাপন তপুরা ঠিক করে রেখেছিলেন আগেই, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই। এই ম্যাচের আগে যে ভিন্ন আবেগ খেলা করে। জয়ের নেশায় আবার রক্ত চনমনিয়ে ওঠে।

গোলের পর দর্শকদের উচ্ছ্বাস দেখে মনে হচ্ছিল পুরো বাংলাদেশই নেমে এসেছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে। রাতে তাঁরা বাড়ির পথ ধরেছেন রোমাঞ্চকর এক জয়ের অনুভূতি নিয়ে।
তপু সেই রোমাঞ্চের নায়ক হয়েই থাকবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here