ছাত্রীর সাথে শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কের অডিও ফাঁস

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউজফিডবিডি.কম:: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বিয়ের প্রলোভনে অনৈতিক সম্পর্ক করার অনৈতিক ফোনালাপ ফাস হয়ে গেছে। তিনি ইবির টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ওই ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করেছিলেন বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে ভুক্তভুগি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকরির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার দাবি করেছে।

জানা যায়, গত বছরের ৬ অক্টোবর বাণিজ্য অনুষদের ছাত্রী পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পিংকি (ছদ্মনাম)। তার সাথে দীর্ঘ দিন ধরে ড. আরফিন প্রেমের সম্পর্ক গড়েছেন বলে জানায় সে। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে পিংকির সাথে একান্তে মিলিত হয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়। তবে পরবর্তীতে ওই ছাত্রী বিয়ের কথা বললে তিনি তার সাথে আর কোন যোগাযোগ করেননি। তার সাথে প্রতারণা করার বিচার চেয়ে সে লিখিত অভিযোগ করে। পিংকির সাথে অনৈতিক ফোনালাপের একটি কল রেকর্ড এই সাংবাদিকের কাছে সংরক্ষিত হয়েছে।

এদিকে এই শিক্ষক ত্রিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ভাইকে নিয়োগ দিতে গিয়ে কালো শিক্ষকের তালিকাভুক্তি হোন। এই বিষয়ে ত্রিশাল নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি জনাব আরফিনের বিষয়ে কষ্ট, মর্মাহত ও অবাক হয়েছি। একজন শিক্ষক হয়ে নিয়ম বর্হিভূতভাবে নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের প্রশ্নপত্র প্রনয়ন ও উত্তর মূল্যায়ন করে নিজের ভাইকে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করান। এতে তিনি যে প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছেন তা শিক্ষক সমাজেন জন্য দারুন লজ্জাস্কর ব্যাপার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২ তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তথ্য গোপন অভিযোগে ও নৈতিকতা বিরোধী চিহ্নিত করে বিশেষজ্ঞ সদস্য হতে অপসারণ ও আজীবনের জন্য দূর্নীতিবাজ শিক্ষকের কালো তালিকাভুক্ত করণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার কর্মাকান্ড হতে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রফেসর ড. আরেফিনের বিষয়টি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট দাপ্তরিক নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল।’

এবিষয়ে অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় দিলে ফোন লাইন কেটে দেন। এরপর বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী (রাশিদ আসকারী) বলেন,‘ বর্তমান প্রশাসন সব ধরণের অপ্রীতিকর বিষয়ে প্রাথমিক যাচাই বাছাই শেষে পদক্ষেপ নিতে তৎপর রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং পরবর্তীতে সত্যতা প্রামাণ হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এফএফবি/আইইউ/এমএস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here