ঘুরে আসুন সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়

নিউজফিড,চট্টগ্রাম ::
চন্দ্রনাথের সৌন্দর্য বলে বোঝানোর মত নয়। হাজার ফুট উপরে অবস্থিত এই মন্দিরের সৌন্দর্য অনন্য। সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় সনাতন ধর্মালম্বীদের অত্যন্ত ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান। উচু সিড়ি, মাটির রাস্তা, পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে উঠতে গিয়ে ক্লান্ত হয়নি এমন মানুষের দেখা মেলা কঠিন। কিন্তু উপরে উঠে চন্দ্রনাথের চূড়ার সৌন্দর্যে সব ক্লান্তি এক নিমিষেই দূর হয়ে যায়।
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত এই পাহাড়। অনেকের মতে পাহাড়টি ১১০০+ ফিট উঁচু আবার অনেকের মতে ২১০০ ফিট। যতই হোক না কেন পুরোটাই উঠতে পেরেছি
যারা এডভেনচার প্রেমিক তাদের জন্য এই পাহাড় শ্রেষ্ঠ জায়গা। পাহাড়ের উপরে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সঙ্কা নেই। সো যে কেউ চাইলেই অনায়াসে ঘুরে আসতে পারেন
এবং অবশ্যই সাথে পানি ও জুস রাখবেন ।

সীতাকুন্ড নামটি কেমন যেন !
বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায় প্রাচীন আমলে এখানে মহামুনি ভার্গব বাস করতেন। অযোধ্যার রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র তার বনবাসের সময় এই স্থানে এসেছিলেন। মহামুণি ভার্গব রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র আগমণ করবেন জেনে তাদের গোসল করার জন্য এখানে তিনটি কুণ্ড সৃষ্টি করেন। রামচন্দ্রের সাথে তার স্ত্রী সীতাও এখানে এসেছিলেন। রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতা এই কুণ্ডে গোসল করেছিলেন এবং সেই থেকে এই স্থানের নাম সীতাকুণ্ড।


কীভাবে যাবেনঃ

বাসঃ ঢাকা – চট্টগ্রামের বাসে সীতাকুন্ড বাজারে নেমে সিএনজি তে উঠে পরুন। খরচ কমাতে চাইলে ঢাকা-ফেনী বাসে গিয়ে লোকাল/পোক ধরে ফেলুন।

ট্রেনঃ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গামী রাতের ঢাকা মেইল শুধুমাত্র সীতাকুন্ড থামে। রাতে রওয়ানা হলে ভোর হতেই পৌছে যাবেন সীতাকুন্ড রেল স্টেশন এ। এরপর সিএনজি নিয়ে চলে যান চন্দ্রনাথ পাহাড়ে।
উপযুক্ত সময় :
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় এবং আশপাশের এলাকায় ২০০৪ সালে গড়ে তোলা হয় দেশের প্রথম ইকো পার্ক সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক। কি বর্ষা, কি শী সব মৌসুমেই এই পার্ক ভ্রমণ পিয়াসীদের কাছে দারুণ ভাবে কাছে টানে।
বিশেষ করে বর্ষায় সবুজে ঘেরা এই পার্ক পর্যটকদের কাছে টানতে যেন নিজ যৌবন ফিরে পায়। এ সময় পার্কের ঝরনাগুেলো পানিতে থাকে টইটম্বুর। ফলে বর্ষায় সীতাকুণ্ডে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দুতে থাকে এ ঝরনা। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক। নানান গাছপালা আর পশুপাখি সমৃদ্ধ এই পার্কের ভেতর থেকে পিচঢালা আঁকাবাঁকা পথে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সামনে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়া।

তবে বর্ষার সময়ে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের মূল আকর্ষণ হল ‘সুপ্তধারা’ এবং ‘সহস্রধারা’। দুটিই ঝরনা। তবে নামের সঙ্গে কোনোটারই চারিত্রিক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়না।

সুপ্তধারা ঝরনা স্থানীয়ভাবে ছোট ঝরনা নামে পরিচিত। তবে এটা ছোট কোনো ঝরনাই নয়। উঁচু পাহাড়ারের উপর থেকে অনবরত তিনটি ধারা বহমান এখানে। তবে টানা কয়েকদিন বৃষ্টি না হলে তিনটি ধারার একটিতে পানি কমে যায়।

সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের ভেতর থেকে ঝিরি পথ ধরে যেতে হয় সুপ্তধারায়। তবে টানা বৃষ্টিপাত হলে ঝিরি পথে হাঁটা কঠিন। তখন কোমর পানিরও বেশি থাকে এ পথে। ইকোপার্ক থেকে নিচে নামার পরেই ঝিরিপথ। জায়গাও বেশ নির্জন। এ পথে প্রায় পনের মিনিট হাঁটার পর ঝরনাধারার শব্দ কানে ভেসে আসবে। একটু সামনে এগুলেই নিজের চোখকে হয়ত বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। পাহাড়ের আড়লো লুকানো এতো সুন্দর ঝরনা! এক পাশ থেকে সুপ্তধারার উপরেও ওঠা যায়। তবে সেটা খুবই বিপজ্জনক। কারণ এখানকার পুরো জায়গাই পাথুরে। অনবরত পানি পড়ার কারণে সেখানে পাথরের উপরে শেওলা জমে থাকে।

ইকোপার্কের আরও একটু উপরে উঠে আবার নিচে নেমে সহস্রধারা ঝরনা। এরও নামের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। স্থানীয়দের কাছে এটির নাম বড় ঝরনা। একটি মাত্র ধারা পাহাড়ের গা বেয়ে প্রবাহমান এখানে। এ ঝরনায় যেতে হলেও পাহাড়ের নিচে নামতে হয়। আর পথ বেশ দুর্গম।

সহস্রধারা দেখে এবার চলুন চন্দ্রনাথের চূড়ায়। এখান থেকে সামান্য দূরেই চন্দ্রনাথের চূড়া। এ পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ার উচ্চতা ৩৬৫ মিটার। চূড়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ স্থান চন্দ্রনাথ মন্দির। এখান থেকে দক্ষিণ দিকে তাকালে দেখা যায় বিস্তীর্ণ বঙ্গোপসাগর। জনশ্রুতি রয়েছে যে, নেপালের এক রাজা ঘুমের মধ্যে পৃথিবীর পাঁচ স্থানে শিবমন্দির স্থাপনের আদেশ পান। স্বপ্নে আদেশ পেয়ে নেপালের সেই রাজা পৃথিবীর পাঁচ স্থানে পাঁচটি শিবমন্দির স্থাপন করেন। এগুলো হলো- নেপালের পশুপতিনাথ, কাশিতে বিশ্বনাথ, পাকিস্তানে ভূতনাথ, মহেশখালীর আদিনাথ এবং সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দির।

পাহাড় সম্পর্কে কিছুুতথ্য : বাংলাদেশের পাহাড়সমূহ গঠিত-টারশিয়ারী যুগে। বাংলাদেশের পাহাড়গুলো- ভাঁজ পর্বত হিসেবে পরিচিত। আর দেশের বৃহত্তম/উচ্চতম পাহাড়- গারো পাহাড় । যেটি ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত । বাংলাদেশের পাহাড়ের গড় উচ্চতা-৬১০ মিটার বা ২০০০ ফুট । এখন পর্যন্ত ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে- কুলাউড়া পাহাড়ে (মৌলভীবাজার) । চন্দ্রনাথের পাহাড়টি অবস্থিত-চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে । এটি হিন্দুদের তীর্থস্থান হিসেবে বেশ পরিচিত ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here