গুলি ছুড়লো আওয়ামী লীগ আর ফাঁসি হলো বিএনপি নেতাদের: ফখরুল

 স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

আওয়ামী লীগের দুপক্ষের গোলাগুলিতেই ২৪ বছর আগে পাবনার ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলি লেগেছিল দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গুলি ছুড়েছে আওয়ামী লীগ আর ফাঁসি হলো বিএনপি নেতাদের। ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতের দেয়া ফাঁসির আদেশে আমরা শুধু হতাশই নয়, ক্ষুব্ধও।’

তিনি বলেছেন, ‘পাবনায় আদালত যে রায় দিয়েছেন- এতে গোটা জাতি বিস্মিত হয়েছে। ২৪ বছর আগে ট্রেনে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। কে ছুড়েছে, কয়টি ছুড়েছে তার কোনও প্রমাণ নেই।  অথচ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৯ জনকে ফাঁসি দেয়া হলো।’

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব আয়োজিত এক চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই রায়ে আমরা শুধু হতাশ নই, বিক্ষুব্ধ। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এদেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নেই।’

তিনি বলেন, ‘ট্রেনে গুলি ছোড়ার ঘটনায় বিএনপি নেতাদের সাজা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওইদিন আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের গোলাগুলির ঘটনায় ট্রেনে এসব গুলি লাগে।’

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটা অর্থনীতি ফোরামের দাওয়াতে গেছেন, চীনের সরকারের দাওয়াতে যান নাই। আমরা খুব খুশি হতাম তিনি যদি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনা প্রেসিডেন্টের সাথে বসে এ সমস্যা সমাধানে কথা বলতেন। কিন্তু তিনি তা করছেন না। তিনি চুক্তি করেছেন, মেগা প্রজেট, মেগা দুর্নীতির  চুক্তি। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা সব সময় বলে বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে। তারা ক্যান্টনমেন্টের দল। কিন্তু তারা একবারও বলেনা এরশাদের আমলে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা রাজনীতিতে এসেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন- এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যে যাবে সে হবে জাতীয় বেঈমান। অথচ কয়েকদিন পরে তিনি নিজেই এরশাদের অধীনে নির্বাচনে গিয়েছেন। আমরা এগুলো ভুলে যাইনি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া প্রতিটি সময়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। এখনও তিনি তা করে যাচ্ছেন। এখন যে কারাগারে আছেন এটাও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই।’

অপর এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে মাত্র ৪টি পত্রিকা রেখে আর সব বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সব পত্রিকা খুলে দিয়েছিলেন।’

খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে ফখরুল বলেন, ‘এই ধরনের মামলায় সবাই জামিন পান। শুধু খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না। এই ধরনের মামলায় জামিন পাওয়ার উদাহরণ আমাদের সামনেই আছে। ব্যারিস্টার মঈনুল হক জামিন পেয়েছেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জামিন পেয়েছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আর কোনও আস্থা নেই। একটা নির্বাচনও তারা সুষ্ঠু করতে পারেননি।’

ড্যাবের আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ড্যাবের নবনির্বাচিত সভাপতি হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. আবদুস সালাম, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ডা. ওবায়দুল কবির খান, নবনির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. মেহেদী হাসান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার মামলায় গতকাল বুধবার (৩ জুলাই) পাবনা দায়রা জজ-১ এর বিচারক মো. রোস্তম আলী ৯ আসামিকে ফাঁসি দণ্ডাদেশ দেন। একইসঙ্গে ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- প্রধান আসামি ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন ছাত্রদল উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আখতারুজ্জামান আখতার, তৎকালীন উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি ও ঈশ্বরদী কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহিন, বিএনপির নেতা শহিদুল ইসলাম অটল, তৎকালীন ছাত্রদল নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, তৎকালিন পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তফা নুরে আলাম শ্যামল, তৎকালীন ছাত্রদল নেতা আজিজুর রহমান শাহিন ওরফে প্রবলেম শাহিন, পৌরসভার সাবেক কমিশনার শামসুল আলম।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- আমিনুল ইসলাম (পলাতক), আজাদ হোসেন ওরফে খোকন (বর্তমানে মৃত), ইসমাইল হোসেন জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, শামসুর রহমান শিমু, আনিসুর রহমান সেকম (পলাতক), আক্কেল আলী, মো. রবি (পলাতক), মো. এনাম, আবুল কাশেম হালট (পলাতক), কালা বাবু (পলাতক), মামুন (পলাতক),সেলিম, কল্লল, তুহিন, শাহ আলম লিটন, আব্দুল্লাহ আল মামুন রিপন, লাইজু (পলাতক), আব্দুল জব্বার, পলাশ, হাকিম উদ্দিন টেনু, আলমগীর, আবুল কালাম (পলাতক) ও একেএম ফিরোজুল ইসলাম পায়েল।

১০ বছর করে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু, ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, বিএনপি নেতা রন রিয়াজী (পলাতক), আজমল হোসেন ডাবলু, মুক্তার হোসেন, হাফিজুর রহমান ওরফে মুকুল, হুমায়ুন কবির দুলাল, তুহিন বিন সিদ্দিকী, ফজলুর রহমান, চাঁদ আলী (পলাতক), এনামুল কবির, জামরুল (পলাতক) ও বরকত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here