ইয়েমেনে বিমান হামলায় অন্তত ৫৫ জন নিহত

নিউজফিড,ডেস্ক:

লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী ইয়েমেনি বন্দরনগরী হোদাইদাহতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ১২৪ জন। হুথি নিয়ন্ত্রিত সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর আল জাজিরা।

বৃহস্পতিবার দিনের শেষভাগে একটি বিবৃতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, হোদাইদাহ শহরের আল-থাওয়ারা সরকারি হাসপাতাল ও ব্যস্ততম একটি মত্স্যবন্দরে ওই বিমান হামলা চালানো হয়।ব্রিটেনভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার  ২৮ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল। ওদিকে চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া শুক্রবার ভোরে ৭০ জন নিহতের কথা উল্লেখ করেছে।

হুথি নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক মন্ত্রী তাহা আল মুতাওয়াকিল বলেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিশালসংখ্যক হতাহতের বিষয়টি ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খাচ্ছে। ফের বিমান হামলার ভয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা হতাহতদের রাজধানী সানা বা অন্যান্য প্রদেশে পরিবহন করতে ভয় পাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা রেড ক্রস বলছে, তারা ওই এলাকায় অস্ত্রোপচারের উপকরণ পাঠিয়েছে, যা দিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ জনের চিকিৎসা করা যাবে। রেড ক্রস ওই হাসপাতালে আগে থেকেই সহযোগিতা করে আসছে।

হুথি নিয়ন্ত্রিত সাবা বার্তা সংস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুতাওয়াকিল বলেন, ‘আমরা যা দেখছি, তা ঘৃণ্য অপরাধ।’ এ প্রাণহানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেও দায়ী করেন তিনি।

মোহাম্মদ আল হাসনি নামে হোদাইদার জেলে সমিতির প্রধান আল জাজিরাকে বলেন, এলাকাটিতে কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিল না এবং জেলেদের ওপর আক্রমণের বিষয়টি প্রত্যাশিত ছিল না।তিনি আরো বলেন, বন্দর ও বাজারটি মানুষের মরদেহে পূর্ণ। এটা ভয়ঙ্কর একটি হত্যাকাণ্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে আসছে। হুথিদের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত ইয়েমেনের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবু-রাব্বু মানসুর হাদিকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর জন্য এ অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছে সৌদি জোট।

ইয়েমেন যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া চরম খাদ্য সংকটে মারা গেছে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি শিশু।

কয়েক সপ্তাহ ধরে হোদাইদাহ শহরে হামলা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিল জাতিসংঘ।তাদের ভয় ছিল এখানে সংঘাত ত্বরান্বিত হলে ইয়েমেনিদের কাছে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়বে। এতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হবে।

২০১৪ সাল থেকে হোদাইদাহ হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বন্দর হয়েই ২০১৫ পূর্ববতী ইয়েমেনের খাদ্য, জ্বালানি ও মানবিক সাহায্যসহ প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি সম্পন্ন হয়ে আসছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here