আকাশ রাঙিয়ে নতুন বছর বরন

নিউজফিডবিডি.কম

নিউজ ডেস্ক :: আজ ইংরেজি নববর্ষের প্রথমদিন। স্বাগতম ২০১৮। শুভ হোক নতুন বছরের আগমন। দূর অতীতে গ্রিসের মানুষ অস্তপ্রায় লাল সূর্যকে জীর্ণ জীবনের প্রতীক হিসেবে বিদায় জানাত।  সমুদ্র মায়ের কোলে বিলোপ হওয়া ক্লান্ত সূর্যের আবার পুনর্জন্ম পরদিন ভোরে সেই সমুদ্র গর্ভ থেকেই। এভাবেই বারবার বেজেছে ধ্বংস আর হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে নতুন জীবনের সুর।

নানা উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ স্বাগত জানায় খ্রিস্টিয় নতুন বছরকে। মেতে ওঠেন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। গেল বছরের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসাব খুঁজতে খুঁজতে নতুন বছরে আশা জাগিয়েছে নতুন নতুন স্বপ্ন। সেসব স্বপ্ন পূরণ হোক নতুন বছরে- এমন প্রত্যাশা রইলো।

পশ্চিমা বিশ্ব এ দিনকে বিশেষ গুরত্ব দিয়ে পালন করে আসে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা ইংরেজি নববর্ষকে স্মরণ করতে বিশেষ আয়োজনে মেতে ওঠে। রাজধানী ঢাকায় এ উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে দেশের অন্য শহরগুলোতেও।

বাংলাদেশে নিরাপত্তাজনিত কারণে রাত ৮টা বাজার আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও শাহবাগের চৌহদ্দিতে কড়া পাহারা বসায় আইন-শৃংখলা বাহিনী। রাজপথে তরুণ-তরুণীদের আটকানো গেলেও আকাশে স্বপ্ন বাতি উড়িয়ে নববর্ষকে বরণ করে নিতে এতটুকু কমতি রাখেনি তরুণ-তরুণী তথা নগরবাসীরা। নগরীর বিভিন্ন এলাকার ছাদ থেকে টানা ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট সময় ধরে আকাশে স্বপ্ন বাতি জ্বালিয়ে রেখে নববর্ষকে বরণ করে নেয়া হয়।

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সামোয়া, টোঙ্গা, কিরিবাতিতে শুরু হয় ২০১৮ সালের প্রথম যাত্রা উৎসব। এ তিনটি দেশের মানুষ সবার আগে বরণ করে নতুন বছরকে।

একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কবাসীরা পালন করছে তীব্র ঠাণ্ডা ও শীতে মোড়ানো নতুন বছরের শুরুর মূহুর্ত। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ও হাতে হাত রেখে উষ্ণতা ছড়িয়ে টাইম স্কয়ারে জড়ো হয়েছে উদযাপনকারীরা। তবে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও থেমে নেই নববর্ষকে বরণ করে নেয়ার হৈহুল্লোড়।

বরাবরের মতোই ঝাঁকঝমকপূর্ণ আলোর কারসাজি ও আতশবাজি দিয়ে হংকং এ নতুন বছর শুরু হল। ঘড়ির কাটা বারোটা ছুঁতেই আনন্দের উম্মাদনায় ভেসে যায় হংকংবাসী। এখানকার নববর্ষ উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরে সমাগম হয়েছিল প্রচুর পর্যটকের।

বেইজিং-এ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং’র বিবৃতি প্রচারের মাধ্যমে শুরু হয় নতুন বছর। ২০১৮ সালকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম জাতীয় কংগ্রেসের লক্ষ্য বাস্তবায়নের বছর হিসেবে ঘোষণা করলেন তিনি। সেইসাথে ২০২০ সালের মধ্যে প্রান্তিক শ্রমিকদের দারিদ্রতা দূর করার সংকল্প করলেন তিনি।

চীনের ঐতিহ্যবাহী আতশবাজি প্রদর্শণের মাধ্যমে বেইজিং আলোকিত হয়ে ওঠে। কয়েক হাজার বছর পূর্বে তাং সাম্রাজ্যের প্রচলন করা এই আতশবাজি উৎসব উপভোগ করতে মধ্যরাতে নেমে আসে হাজার হাজার লোক।

লন্ডনের এক ঘণ্টা আগেই নিউজিলেন্ডে শুরু হয়ে যায় নতুন বছরের ক্যালেন্ডার। স্থানীয় সংগীত, নৃত্য দিয়ে এখানকার মানুষ বরণ করে নেয় ২০১৮ সালকে। শৃংখলা বজায় রাখতে অনেক শহরে নিষিদ্ধ করা হয় মধ্যপানকে।

লন্ডনের এক ঘণ্টা পরে অস্ট্রেলিয়ার মানুষ নতুন বছরে পা দেয়। সন্ধ্যা থেকেই অস্ট্রেলিয়ার আকাশ আতাশবাজির আলোতে আলোকিত। প্রতি বছরের মতোই সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউজ হয়ে ওঠে আলোর ফোয়ারা। এখানকার মনোমুগ্ধকর আলো উৎসব দেখতে জড়ো হয় প্রায় ১৬ লাখ মানুষ।

ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশে কাছাকাছি সময়ে নতুন বছর শুরু হয়। ভারতে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তা নেমে আসে মধ্যরাতে। নেচে গেয়ে স্বাগত জানায় নতুন বছরকে। নেপাল হয়ে ওঠেছে পর্যটকপূর্ণ, এখানকার রেস্তোরাঁ, মদের বারে ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তানে শৃংখলা রক্ষার্থে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পালিত হচ্ছে নতুন বছরের উদযাপন।

এন.এফ.বি/ এন.এম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here